বৃহস্পতিবার, ১০ Jun ২০২১, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

১০-হাজার-ফুট-উঁচুতে-সুড়ঙ্গ-সড়ক তৈরি করলো ভারত-অটল-টানেল

১০-হাজার-ফুট-উঁচুতে-সুড়ঙ্গ-সড়ক তৈরি করলো ভারত-অটল-টানেল

বলা হচ্ছে, এত উঁচুতে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাসড়ক সুড়ঙ্গ (হাইওয়ে টানেল)।ভারতে ১০ হাজার ফুট ওপরে সুড়ঙ্গ এক মহাসড়ক তৈরি করে নাম করণ করা হয় —হাইওয়ে ‘অটল টানেল’। ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি শহরকে লাদাখের লেহ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এটি। দুই শহরের মধ্যে ৪৬ কিলোমিটার দূরত্ব ঘুচিয়েছে এই সুড়ঙ্গ; যাতায়াতকারী মানুষের সময় সাশ্রয় হয়েছে চার ঘণ্টা।

 

এই মহাসড়ক সুড়ঙ্গ নাম করণ হয়েছে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নামে। ছয় বছরের কম সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বাস্তবে সময় লেগেছে ১০ বছর। এখন সম্পর্ণ ভাবে প্রস্তুত অটল টানেল।

 

সুড়ঙ্গের ভেতর নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে।

 

সুড়ঙ্গের ভেতরে ৬০ মিটার পরপর রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা; ৫০০ মিটার পরপর রয়েছে জরুরি বহির্গমন সুড়ঙ্গ। অগ্নিদুর্ঘটনার কথা বিবেচনায় রেখে সুড়ঙ্গের ভেতরে বসানো হয়েছে ‘ফায়ার হাইড্র্যান্ট’। এই পানির কল ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সহজেই আগুন নেভাতে পারবেন।সম্পর্ণ মানঃ সম্মত রূপে তৈরি করা হয়েছে—হাইওয়ে ‘অটল টানেল’।

 

 

লেহ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে প্রধান প্রকৌশলী কে পি পুরাশোথমান তিনি আরো বলেন , ‘অটল টানেল মানালি শহর যার কিনা ১০ হাজার ফুট উঁচুতে এত লম্বা মহাসড়ক সুড়ঙ্গ বিশ্বে আর কোথাও নেই। এই সুড়ঙ্গ মহাসড়ক মানালি ও লেহ শহরের মধ্যে দূরত্ব কমিয়েছে ৪৬ কিলোমিটার। যাতায়াতে সময় বাঁচবে ৪ ঘণ্টা। আমরা ৬ বছরের কম সময়ে এটির নির্মাণকাজ শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে টানেলটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে লেগেছে ১০ বছর।’

 

 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ।এটা ছিল অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। দুর্গম এলাকা। সেখানে সুড়ঙ্গ নির্মাণের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে সংযোজন করতে হয়েছে। প্রয়োজনমতো সেসব যন্ত্রপাতি খুলে আবার সরিয়ে আনতে হয়েছে।  এ ধরনের আরও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের।

 

 

সাকল্যে এই মহাসড়ক সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটারের কিছু বেশি। প্রস্থ ১০ দশমিক ৫ মিটার। দুই পাশে রয়েছে এক মিটার করে ফুটপাত। সব ঝক্কি ঝামেলা কাটিয়ে অটল টানেলকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে পেরে দারুণ খুশি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

প্রকল্প পরিচালক কর্নেল পরীক্ষিত মেহরা  জানান, অত্যন্ত দক্ষ একদল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সমন্বিত প্রয়াসে অটল টানেল আলোর মুখ দেখেছে।

 

সব মিলিয়ে এই সুড়ঙ্গ প্রকল্পটি আমাদের জন্য ছিল সত্যিকারের এক চ্যালেঞ্জ।বিশেষজ্ঞ দলটির অনেকেই এই মহাসড়ক সুড়ঙ্গের নকশায় পরিবর্তন আনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন ছিল লেহ শহরকে সংযুক্ত করার। এ ক্ষেত্রে এই সুড়ঙ্গ হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ। আমরা শুধু দুই প্রান্ত থেকে কাজ করতে পেরেছি। অন্য প্রান্তটা ছিল উত্তরে। সেখানকার রোহটাং এলাকায় বছরে মাত্র পাঁচ মাস যাওয়া যায়।

 

নতুন পার্লামেন্ট ভবন গড়ছে ভারত এই নির্মাণ কাজে জন্য ব্যয় হবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

 

নতুন পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে ভারত। এই নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ টাটা।

 

 ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনকালে নতুন এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব স্থাপনা আধুনিকীকরণ প্রকল্পে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্তমান পার্লামেন্ট ভবনের স্থানেই ত্রিভুজ আকৃতির তিনতলা বিশিষ্ট নতুন এ ভবন নির্মাণ করা হবে। দিল্লিতে ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনাগুলো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারত সরকার এই পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করছে।

 

ভারতে  ৫০ লাখের বেশি কোরুনা  রোগী রয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৮০ হাজারের বেশি মারা গেছেন।এমন অবস্থায় কিছ বিশিষ্ট ব্যক্তি গণে বলছেন, এই মুহূর্তে পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণে এত টাকা (রুপি) ব্যয় করা উচিত না। সরকারের উচিত এখন করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে অর্থ ব্যয় করা।

 

 

তবে ভারত সরকার বলছে, সাংসদ ও সংসদীয় কর্মকর্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এতে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাই নতুন ভবন প্রয়োজন।

 

 নতুন পার্লামেন্ট ভবনটি বর্তমান ভবনের চেয়ে বড় হবে। ত্রিভুজ আকৃতির তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে ১ হাজার ৪০০ সাংসদ একসঙ্গে বসতে পারবেন। ভারতের বর্তমান পার্লামেন্ট ভবন ব্রিটিশ স্থপতি হারবার্ট বেকারের নকশা অনুযায়ী। বড় মিলনায়তন–সংবলিত গোলাকার এই ভবনের নির্মাণকাজ ১৯২৭ সালে শেষ হয়েছিল।

 

সমালোচকেরা এই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এ কথা সত্য যে এটা মোদি সরকারের নিজস্ব কোনো প্রকল্প নয়। কারণ গত এক দশক ধরেই নতুন পার্লামেন্ট ভবনের দাবি সংসদে উঠে আসছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush