বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ১১:১৮ অপরাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে যা যা মানতে হবে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে যা যা মানতে হবে। 

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যখন পুনরায় খুলবে তখন সব শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে সেগুলোর মাঝে অন্যতম হচ্ছে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া । বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করে একাধিক পালা বা সপ্তাহের একেক দিন একেক শ্রেণির পাঠদানের ব্যবস্থা রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে|

 

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পুনরায় বিদ্যালয় চালু করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে তার একটি নির্দেশিকা তৈরি করে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে অন্তত ৩৫টি নির্দেশ মানার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয় খোলার আগেই এই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  বিদ্যালয় খুলার বেপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।

 

বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিরাপদ এলাকা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকা ভিত্তিক বিদ্যালয় চালু করা যেতে পারে। বিদ্যালয় কার্যক্রম পুনরায় চালু করার আগে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় কোনো এলাকাকে সরকার ‘রেড জোন’ ঘোষণা করলে সেই এলাকায় বিদ্যালয় কোনো ভাবে খোলা রাখা যাবে না।

 

বিদ্যালয় জীবাণুমুক্তকরণ, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাতা ধোয়া, হাঁচি-কাশি বিষয়ক শিষ্টাচার, সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অসুস্থদের জন্য করণীয় এবং নিরাপদ খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে নির্দেশনা সংবলিত পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করতে বলা হয়েছে এই নির্দেশনায়। এ ছাড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। হাত ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার স্থাপন বা সম্প্রসারণ করা জরুরি। মেয়ে শিশুদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সোব্যবস্থা রাখতে হবে। বিদ্যালয় খোলার আগে অবশ্যই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ ও টয়লেটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক, সাবানসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরের আবর্জনা পরিষ্কার ও আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

 

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অসুস্থ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভাব্য নারী শিক্ষককে বিদ্যালয় আসতে হবে না। বিদ্যালয় কার্যক্রমের শুরু, শেষ এবং টিফিন পিরিয়ডের কর্মসূচি এমনভাবে সাজিয়ে নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জটলা তৈরি করতে না পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের তাপমাত্রা মাপতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয় খোলার আগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক নন-কন্টাক থার্মোমিটার সংগ্রহ করতে হবে। যাদের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থা না আসা পর্যন্ত কোনো ধরনের লোক সমাগমে যাওয়া যাবে না। বিদ্যালয় চলাকালীন  কেউ বাইরে যাবে না।

 

এ ছাড়া কারও মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন উপসর্গ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং যারা তার সংস্পর্শে এসেছেন তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা বাদ্যতা মূলক করতে হবে। প্রত্যেক উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যাতে অভিভাবকসহ স্থানীয় মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।

 

প্রায় তিন লাখ করোনা রোগী টেলিমেডিসিন সেবা পাচ্ছেন
করোনা রোগীদের ৯৬ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি ৪ শতাংশের চিকিৎসা হচ্ছে হাসপাতালে। বাড়িতে থাকা রোগীদের বড় অংশ টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রায় তিন লাখ করোনা রোগী এই সেবা পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কল সেন্টার স্বাস্থ্য বাতায়ন এই তথ্য দিয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টার ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’ দেশের মানুষকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে ২০১৫ সাল থেকে
করোনায় মহামারির সময় এই সেবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। করোনায় সংক্রমিত রোগী, সন্দেহভাজন করোনা রোগী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত টেলিফোন কল পাচ্ছে সেন্টারটি। প্রতিদিন কলের সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি।

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’–এর কার্যালয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি এই কল সেন্টার পরিচালনা করছেন । সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক উদ্যোগ এটুআই, আইসিটি বিভাগ পরিচালনায় সহায়তা করে। গত শনিবার স্বাস্থ্য বাতায়ন কার্যালয় গিয়ে কথা হয় সিনেসিস আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।

 

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর কল সেন্টারের গুরুত্ব বেড়ে যায়। হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেকেই নিরুৎসাহ বোধ করেন, তাঁদের একমাত্র বড় ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে কল সেন্টার। মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কল সেন্টারে জনবলসহ সেবার পরিমান বাড়ানো হয়। কল সেন্টারের মধ্যেই ‘কোভিড-১৯ হেলথ কেয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা হয়। ১৪ জুন থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
একটি বহুতল ভবনের চারটি কক্ষ থেকে পৃথক বাবে টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম চলছে |এর একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, এক একটি টেবিলে দুটি করে কম্পিউটার, দুটি চেয়ার। কিন্তু প্রতি টেবিলে একজন করে চিকিৎসক কানে যন্ত্র লাগিয়ে কথা বলছেন। কর্মকর্তারা বললেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে একটি করে চেয়ার খালি রাখা হয়েছে। মোট ৮৪ জন চিকিৎসক ও ৩৬ জন স্বাস্থ্য তথ্য কর্মকর্তা টেলিফোনে কোভিড রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যায়।

 

কর্মকর্তারা জানান, ১৬২৬৩ নম্বরের কল ছাড়াও ৩৩৩ নম্বরে আসা কলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল সেন্টারে চলে আসে। এসব কলের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য তথ্য কর্মকর্তারা।

 

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। সিনোসিস আইটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৪টি কলে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে স্বাস্থ্য বাতায়ন থেকে করোনা বিষয়ে সেবা দেওয়া হয়েছে ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭০৩টি কলে। আর কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টারের মাধ্যমে ১৮ জুন থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়।

 

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিদিনের শানাক্ত হওয়া রোগীর ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস)। এমআইএস প্রতিদিনের তালিকা পাঠিয়ে দেয় স্বাস্থ্য বাতায়নে। এরপর চিকিৎসকেরা রোগীদের মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে রোগীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। প্রত্যেক রোগীকে ১৪ দিনে কম পক্ষে চারবার ফোন করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, করোনা রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার ব্যাপারেও সেন্টার থেকে সহায়তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দাফন ও কবর দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হচ্ছে।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সরকারের এই বড় উদ্যোগ ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠান করোনা রোগীদের টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর কিছু আছে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। কিছু বড় হাসপাতালের নামকরা চিকিৎসকেরাও টেলিফোনে সেবা দিচ্ছেন।

 

সর্বোপরি চিকিৎসকেরা ব্যক্তিগত চেম্বার বা বাসা থেকে করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন মুঠোফোনর মাধ্যমে। ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগী চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে ব্যবস্থাপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন—এমন ঘটনা স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত হয়েছে। সেসব ব্যবস্থাপত্র ওষুধের দোকানে পাঠালে রোগী ঘরে বসে ওষুধ পাচ্ছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush