বৃহস্পতিবার, ২৯ Jul ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ন

মাত্র ৮ মিনিটেই আমিরাতে আ’ঘাত ইরানি ভয়ংকর মিসাইলের!

মাত্র ৮ মিনিটেই আমিরাতে আ’ঘাত ইরানি ভয়ংকর মিসাইলের!

 

ইরানের উন্নত প্রযুক্তির মিসাইলগুলো মাত্র আট মিনিটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যাস্থতায় ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পরই আবুধাবিতে মিসাইল হা’ম’লার হু’মকি দিয়েছে ইরান। গত শনিবার এই হু’মকি দেওয়া হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর চরা মুল্য দিতে হবে বলেও আমিরাত কে হুশিয়ারি করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। হাসান আরো রুহানি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব মুসলমানদের সাথে বেঈমানি করেছে।

 

আঞ্চলিক শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি বাড়াতেই আরব ইসরায়েল চুক্তি হয়েছে বলে ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞদের। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করে বলেন, ওই অঞ্চলে শক্ত অবস্থান নিয়ে ইসরাইলকে চেপে বসার সুযোগ দিলে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন ‘ইরানের মিসাইলগুলো ৮ মিনিটের মধ্যেই আরব আমিরাতে আ’ঘাত হা’নতে পারবে’। তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ইরানি নৌবাহিনীর মহড়াগুলোতে এমন একটি মিসাইল দেখা গিয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ লঞ্চার থেকে এসেছে। এই মিসাইল টি নতুন ছিল এবং সতর্ক বার্তা দিচ্ছে।

 

অন্য এক বিশ্লেষক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ইরান ইতিমধ্যেই ইরাক ও ই’য়েমেনে তাদের ছায়া বাহিনীর মাধ্যমে মিসাইলগুলো সৌদি আরব কে টার্গেট করেছে। নতুন এই হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, আমিরাতের সতর্ক হওয়া উচিৎ। ইতিমধ্যে তারা বিশাল বড় ভুল করেছে। বিশ্বাস ঘা’তকতাপূর্ণ কাজ করেছে। আমার প্রত্যাশা, তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন এবং ভুল পথ ছাড়বে। হাসান রুহানি বলেন, নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের আরেক দফা বিজয় নিশ্চিত করতেই এই চুক্তি করা হয়েছে। যে কারণে ওয়াশিংটন থেকে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়।

 

কিছু কিছু বিশ্লেষকদের মতে আরব-ইসরাইল চুক্তি শান্তি নয় অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করবে মধ্যপ্রাচ্যে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো এই চুক্তির সমালোচনা এবং বিরোধিতা করেছে।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দীর্ঘ আট বছর ধরে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। ইয়েদিয়োথ আহরোনোথ নামক এক ইসরায়েলি পত্রিকা এমনটি দাবি করেছে।

 

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে আমিরাতের এক হোটেলে হামাস নেতা মোহাম্মদ আল-মাবহুহের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সেখানে অস্ত্র বিক্রি করা শুরু করেছে ইসরায়েল। অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তৎকালীন মোসাদের প্রধান তামির পাদ্রো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও জন নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন। সেই অস্ত্র বিক্রি আরো কয়েকগুণে বাড়াতেই আমিরাতের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে ইসরায়েল।

 

এতে আরো বলা হয়, ইসরায়েল শুরুর দিকে আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলো। কারণ সে সময় দুই পক্ষের রাজনৈতিক বিরোধিতা ছিলো অনেক। তাই শত্রু রাষ্ট্রকে নিজেদের অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করা নিয়ে বেশ সন্দিহান ছিলো ইসরায়েলিরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই বিরোধিতাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসে দুই পক্ষ।

ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের শান্তি চুক্তি করার জন্য আমিরাত কে তার মাশুল গুনতে হবে বলে হুঁশিয়ারি করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হাসান রুহানি।

 

এর আগেও আরব আমিরাত ও ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিয়েছিল ইরান।

ইরানের মাটিতে হামলা হলে আরব আমিরাতের দুবাই ও ইসরায়েলের হাইফা শহরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড আর আই জিসি। নিজস্ব চ্যানেল টেলিগ্রামে সংস্থাটি বলেছে, ইরানে বোমা চালানো হলে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার তৃতীয় ধাক্কায় লক্ষ্যবস্তু থাকবে দুবাই ও হাইফা শহর।

 

ইরাকে দুই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাব দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছিল ইরান।

 

ইরাকের যে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, সে দুটি হলো, আল-আসাদ ও ইরবিল। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে – যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বেসামরিক মার্কিন বিমানগুলোকে ইরাক, ইরান, পারস্য ও ওমান উপসাগরের ওপর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush