শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীর কিছু অজানা রহস্যময় ঘটনা

পৃথিবীর কিছু অজানা রহস্যময় ঘটনা

উল্লেখযোগ্য ছয়টি রহস্য যার কোন সমাধান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, প্রকৃতির ধর্মই হচ্ছে রহস্য সৃষ্টি করা। বিজ্ঞান প্রযুক্তির কল্যাণে এমন অনেক রহস্যের দ্বার জনসম্মুখে উন্মোচিত হলেও কিছু রহস্যের আজ অব্দি কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। দেখি তো সেই অনুম্মোচিত রহস্যের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছয়টি রহস্য কি কি!

 

 

১। নাজকা রেখাঃ দক্ষিণ পেরুতে অবস্থিত নাজকা ও পালপা শহরের মাঝখানে প্রায় ৮০ কি.মি. এলাকাজুড়ে বিশাল আর রহস্যময় রেখা রয়েছে যা মানুষের নিকট ‘নাজকা রেখা’ অথবা Nazca/Nasca lines নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় নাজকা সভ্যতার বাসিন্দারা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই রেখা গুলো তৈরি করা হয়। এর মাঝে ১০০টির অধিক রেখা পুরোপুরি জ্যামিতিক রেখার মতো এবং আরো ৭০টির মত রেখা দ্বারা ফুল, পাখি, বাঁদর, মাকড়সা, মানুষের মাথাসহ বিভিন্ন প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা রয়েছে। এর মাঝে বৃহত্তম রেখা চিত্রটি প্রায় ২০০মিটার লম্বা। ১৯২৭ সালে, তোরিবিও মেহিয়া সিসপে নামক এক প্রত্নতাত্তিক ‘ফুটহিল’ পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই লাইন টি সর্বপ্রথম আবিস্কার করেন। উল্লেখ্য যে, এই বিশাল আকৃতির কারণে এই রেখাগুলো শুধুমাত্র আকাশপথ এবং ফুটহিল পাহাড়ের উপর থেকেই পরিস্কার  দেখা যায়।

 

এই রেখা ঙ্কনের কারণ আবিষ্কার করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনেক মতামত। অনেকের মতে সৃষ্টি কর্তাকে আকৃষ্ট করার জন্যই এই বিশাল রেখার সৃষ্টি। অনেকে মনে করেন যে, ঐ যুগে মানুষ ভিনগ্রহী প্রানীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করত এবং এই রেখা গুলোর আঁকার দেখে পৃথিবীতে নেমে আসতে পারে। অনেকে আবার বলেন, নাজকাই পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন রানওয়ে, কেননা এর মাঝে অনেক রেখা রানওয়েতে অঙ্কিত রেখার দৃশ্যপূর্ণ। অনেক রকমের মতবাদ থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ এই নাজকা রেখা অঙ্কনের আসল কারণ উদঘাটন করতেপারে নাই। না পারার কারণে রেখা গুলোর আজও রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।

 

 

২। হারানো শহর আটলান্টিসঃ দার্শনিক প্লেটোর ডায়ালগ ‘টাইমাউস (Timeaus)– এ উল্লেখিত ‘পিলার অফ হার্কিউলিস’-এর সামনে অবস্থিত আটলান্টিস ছিল দশম মিলেনিয়ামের (আজ থেকে প্রায় ১০০০০ বছর আগে) বিশ্বের সর্বশক্তিমান শহর। নৌশক্তির দ্বারা ইউরোপের বেশিরভাগ স্থান জয়ের পর ‘এথেন্স’-এর নিকট পরাজিত হয়ে এই শহর একরাতের মাঝে সমুদ্রে ডুবে যায়! তবে অনেকেই মনে করেন প্লেটো পৌরাণিক কল্পকাহিনী এবং যুদ্ধের কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই রহস্য তৈরি করেছেন যার কোনো সত্যতা নেই এখন পর্যন্ত।

 

 

৩। স্টোনহেঞ্জঃ কম্পিউটারে উইন্ডোস এক্সপি ব্যবহারকারীদের মাঝে কমবেশি সকলেই স্টোনহেঞ্জের সাথে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের অ্যামাসবারির নিকটে অবস্থিত এই স্তম্ভটি, খ্রীষ্টপূর্ব ২০০০-৩০০০ অব্দের মাঝে, নিওলিথিক ও ব্রোঞ্জযুগে প্রতিষ্ঠিত।  পাথরগুলোর মধ্যে আরও দুই সারি গর্ত বেস্টন করে আছে। পাথর গুলোর গঠনের মধ্যে  আছে দুইটি বৃত্তাকার এবং দুইটি ঘোড়ার খুরের নলের আকার বিশিষ্ট পাথরের সারি।  এ ছাড়াও এতে কতগুলো পৃথক পাথর রয়েছে যা পূজার বেদীর পাথর কিংবা বধ্যভূমির পাথর হিসেবে পরিচিত।এতে বৃত্তাকারে বিশালাকৃতির বেশকিছু দণ্ডায়মান পাথর রয়েছে এবং এগুলোর চতুর্দিকে মাটির বাঁধ রয়েছে। এ বাঁধের ভেতর চতুর্দিকে বেষ্টন করে আছে ৫৬টি মৃত্তিকা গহ্বর।। নিখুঁত এবং জটিল গঠনের এই স্তম্ভটি কে বা কারা প্রতিষ্ঠা করেছে, এর প্রতিষ্ঠার পেছনের কারণ কি, তা এই বিংশ শতাব্দীতেও রহস্যই রয়ে গেছে।

 

 

৪। রোয়ানোক কলোনিঃ  রাণী এলিজাবেথ উত্তর আমেরিকায় ইংরেজদের স্থায়ী বন্দোবস্ত করার উদ্দেশ্যে রোয়ানোক আইল্যান্ড (বর্তমানে যা উত্তর ক্যারোলিনার একটি অংশ)-ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে, এ ‘রোয়ানোক কলোনি (Roanoke Colony)’ স্থাপন করেন। অ্যাংলো-স্প্যানিশ যুদ্ধের পর এই কলোনির বাসিন্দারা হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে একে ‘দ্যা লস্ট কলোনি’ নাম দেয়া হয়। বিংশ শতাব্দীতে এসেও সেই কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কি হয়েছিল, কীভাবে হয়েছিল, তাদের এভাবে হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার কারণ কি,না জানার  কারণেই, রোয়ানোক কলোনি এখনও মানুষের নিকট রহস্যই রয়ে গেছে।

 

 

৫। ওয়াও! সংকেতঃ ওয়াও! সংকেত (Wow! Signal) একটি সংকেত ন্যারোব্যান্ড বেতারের। ১৯৭৭ সালের ১৫ই আগস্টে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিগ এয়ার নামক রেডিও টেলিস্কোপে এই সংকেতটি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে, জ্যোতিস র্বিজ্ঞানী জেরি আর. এহম্যান সংকেতটি বিশ্লেষন করতে গিয়ে অভিভূত হয়ে এর কম্পিউটার প্রিন্ট আউটের পাশে ‘Wow!’ লিখেন এখান থেকেই এই সংকেতের নামকরণ করা হয়। সাধারণত, সৌর জগতের ভিতর থেকে এই ধরনের সংকেত আসার কথা নয়। এতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা দেখা য়ায়, সংকেতটি সবাইকে অবাক করে ছিলযে এটি ৭২ সেকেন্ড ধরে বিরাজমান ছিল কিন্তু এরপর এই সংকেতটির আর দেখা পাওয়া যায়নি।

 

 

৬। ভয়নিচ পাণ্ডলিপি এবং রঙ্গোরঙ্গোঃ ১৫তম শতাব্দীর দিকে সম্পূর্ণ অজানা এক ভাষায় লিখিত ভয়নিচ পাণ্ডলিপি(Voynich Manuscript) হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় পাণ্ডলিপি। উইলফ্রিড ভয়নিচ নামক এক বই ব্যবসায়ী এবং পাণ্ডলিপি সংগ্রাহক ১৯১২ সালে পাণ্ডলিপি সংগ্রহ করেন। ভয়নিচের নামানুসারেই এই পাণ্ডলিপির নামকরন করা হয়। কিছু পাতা হারানো গেলেও, এর বর্তমান সংস্করণে প্রায় ২৩৪টি  পাতা রয়েছে যার অধিকাংশই চিত্রা লংকরণের সাথে গঠিত।পাণ্ডলিপিটির অনেক  বর্ণনাতে সে সময়ের  ভেষজ পাণ্ডলিপি,  গাছপালার চিত্রালংকরণ এবং তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই পাণ্ডলিপির আসল অর্থ উদঘাটন করতে পারেনি।

 

 

রাপা নুই (ইংরেজীতে ইস্টার এবং স্প্যানিশে ইস্লা দে পাস্কুয়া)  দ্বীপে এরকম আরো এক রহস্যময় গ্লিফ পাওয়া যায়। ‘রঙ্গোরঙ্গো’ নামক এই গ্লিফটি রাপা নুই দ্বীপের অজানা রহস্য ‘মোয়াই’ সম্পর্কে লিখিত বলে ধারনা করা হলেও এখন পর্যন্ত তা পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। খোদাইকৃত অনেকগুলো  আবক্ষ  মূর্তি। প্রত্যেকটি মূর্তি একেকটি আস্ত শিলা হতে খোদাই করা হয়েছে,  প্রত্যেকটি মূর্তির ওজন ২০ টন  এবং উচ্চতা ২০ ফুট। মোয়াই হচ্ছে, রাপা নুইদ্বীপে সংকুচিত  আগ্নেয় শিলা।এ পর্যন্ত ৮৮৭টি আগ্নেয় শিলা সম্পর্কে জানা গেছে, কিন্তু বর্তমানে ৩৯৪ টি আগ্নেয় শিলা দেখা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush