শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

চাঁদের রহস্যময় ৯টি তথ্য

চাঁদের রহস্যময় ৯টি তথ্য

এখনো চাঁদকে ঘিরে রয়েছে অনেক রহস্য। চাঁদ হচ্ছে মহাবিশ্বে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। কিন্তু এক এক প্রজন্মের কাছের পরিচয় ভিন্ন রকম মত প্রকাশ করে, যেমন ছোটবেলায় চাঁদকে সূতো কাটা বুড়ীর ছোট্ট ঘর হিসেবে কল্পনা করে বাচ্চারা। কখনও কখনও একে উপমা হিসেবে ব্যবহার করেন বিভিন্ন বয়সের রোমান্টিক লোকজন। কিন্তু এ সব-ই কল্পনা বাস্তুবত অন্য রকম।

 

 

চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি কিছু তুলে ধরা হলো:

১.চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।আপনি যখন এর দিকে তাকান তখন কিন্তু এর ছোট দুই প্রান্তের কোন একটিকে দেখতে পাওয়া যায়।

 

২.সূর্য হল একটি পূর্ণ চাঁদের চেয়েও ১৪ গুণ মাত্রায় বেশি উজ্জ্বল। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে চলে যায় তখন চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দেড় ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটও কমে যেতে পারে।সূর্যের মতো সমান উজ্জ্বলতায় জ্বলতে হলে প্রায় চার লাখ পূর্ণ চাঁদের প্রয়োজন।

 

 

 

৩. আমরা যখন চাঁদের দিকে তাকাই তখন এর ৫৯ শতাংশ দেখতে পাই। পৃথিবী থেকে চাঁদের বাকি ৪১ শতাংশ কখনোই দেখা যায় না। আপনি যদি এই তথ্য বিশ্বাস না করেন এবং এটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে চাঁদের লুকিয়ে থাকা ওই ৪১ শতাংশের উপরে গিয়ে দাঁড়ান তাহলে কিন্তু সেখান থেকে আপনি এই পৃথিবীকে দেখতে পাবেন না।

 

 

৪. ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের পর ১৮৮৩ সালে ‘ব্লু মুন’ পরিভাষার জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেসময় অগ্নুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে এতো বেশি ধুলো ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিল তখন তাকে দেখতে নীল মনে হয়েছিল। আর এ থেকেই তৈরি হয়েছে ‘ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন’ কথাটি। বিরল কোন ঘটনা বলতে এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়।

 

৫. চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি ধীর হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে, তখন সাগরে জোয়ারের সৃষ্টি হয়। নতুন কিম্বা ফুল মুনের পরপরই এরকম হয়ে থাকে।

 

 

৬. যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিকল্পনার নাম ছিল ‘এ স্টাডি অফ লুনার রিসার্চ ফ্লাইটস’ অথবা ‘প্রজেক্ট এ১১৯।’যুক্তরাষ্ট্র একবার সত্যিই সত্যিই চাঁদের উপর পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা।বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো।

 

৭. চাঁদের আরও অনেক কিছুই আছে যা এখনও আমাদের অজানা আদো জানা যাবে কিনা বলা যায় না। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় এনিয়ে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের ১৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে চাঁদ পনির দিয়ে তৈরি।

 

৮. চাঁদকে আমরা যখন ক্রিসেন্টের আকারে বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো দেখি তখন আমরা চাঁদ থেকে ছিটকে আসা সূর্যের আলোকেই দেখতে পাই। চাঁদের বাকি অংশটা খুব অস্পষ্ট দেখা যায়। সেটাও নির্ভর করে আবহাওয়ার উপরে। শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চিই হলেন প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি উপলব্ধি করতে পারছিলেন যে চাঁদ আসলে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে না, বরং এর কিছু অংশ লুকানো থাকে।

 

 

 

৯.সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে পড়লে অথবা সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে দাঁড়ালে তখন সূর্য বা চাঁদের আলো সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যায়। একে বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ কিম্বা সূর্যগ্রহণ।

 

নীল রঙের বিরল চাঁদ

এবার রাতের আকাশে দেখা যাবে নীল চাঁদ,বিশ্বের সব জায়গা থেকে দেখা যাবে এই পূর্ণচন্দ্রের মহাজাগতিক দৃশ্য। এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে চলছে গোটাবিশ্ব। দ্বিতীয় এই পূর্ণচন্দ্রের নাম দেওয়া হয়েছে ব্লু মুন বা নীল চাঁদ। প্রতি ১৯ বছর অন্তর এই বিরল ঘটনা ঘটে থাকে। সারা পৃথিবী জুড়ে এই ঘটনা মানুষ একসঙ্গে দেখেছিলেন ১৯৪৪ সালে। এরপর আর একসাথে সারা পৃথিবীর মানুষ দেখতে পাননি।

ইংরাজিতে একটি কথা আছে, ‘‌Once in a Blue Moon’‌, তাই এই চাঁদের নাম ব্লু মুন বা নীল চাঁদ রাখা হয়েছে। কারণ, এই চাঁদকে খুব সহজে দেখা যায় না। ২০৩৯ সালে আবার এই বিরল ঘটনা দেখা গেলেও সারা পৃথিবীর মানুষ একসাথে দেখতে পাবেন কিনা তা বলা যাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush