সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

ঘরে বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু

ঘরে বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু

ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাসের ভয়াবহ শিকার হয়েছিল ১৯ বছর আগে । এর আগে দেশের বাইরের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এর বদলা নিতেই শুধু মাত্র ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।এখন দেশটি কী অবস্থায় আছে ? শত্রু এখন কোথায়? ঘরে নাকি বাইরে? না ঘরে বাইরে মিলিয়ে ?

যখন আর কিছুদিনের মধ্যেই মার্কিন মুলুকে অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।এমন সময়ে এই প্রশ্নগুলো উঠছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন কি না, তার উত্তর নাহয় ভবিষ্যতের হাতেই তোলা থাক। তবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কোন অবস্থায় রেখে নির্বাচনী যুদ্ধে যাচ্ছেন, সেটি বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বিশেষ করে, নাইন-ইলেভেনের বর্ষপূর্তিতে দেখা যাচ্ছে, বাইরের শত্রুর কথায় মুখে ফেনা তুলে ঘরের ভেতরেই বিভক্তির প্রাচীর বানিয়ে শত্রুশিবির তৈরি করে ফেলেছেন ট্রাম্প।

প্রচলিত শত্রুর বাইরে ভাইরাসও শিবিরে থাকতে পারে। যা ভাবছেন, তা–ই সঠিক। নতুন করোনাভাইরাস। এই প্রথম মনে হয় ট্রাম্প হিসেব করে সঠিক কিছু বলেছিলেন।ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে আছে ট্রাম্পের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। জন সহ পকিনস ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড মেডিসিনের হিসাব দেয়া অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। এ কারণেই হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগে বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পার্ল হারবারে হামলা বা নাইন-ইলেভেনে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার চেয়েও করোনাভাইরাসের আক্রমণ বেশি ভয়ংকর। সংখ্যার হিসাবে অন্তত সঠিক বলাই যায়।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর। ভক্স নিউজের দেওয়া এক হিসাবে দেখা গেছে, বুশ প্রশাসনের ওই যুদ্ধে খরচ করেছিল দেশটি প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ডলার । বিশ্লেষকেরা বলছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এতো অর্থ খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই পরিমাণ অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করলে করোনাভাইরাসে এতটা নাস্তানাবুদ হতে হতো না। সেই সঙ্গে হয়তো কয়েক কোটি মানুষকে জীবন দিতে হতো না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯০০ সালের পর থেকে হিসাব করলে এটাই সবচেয়ে বড় সংখ্যা যে। ২০০১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ তাদের বাসস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকেরা বলছেন, বাস্তু থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের আসল সংখ্যা হতে পারে প্রায় ছয় কোটি। এখনো অনেক হিসাব বাকি যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, সেগুলোর হিসাব এখানে যুক্ত হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজের ঘর সামলানো।পলিটিকোর নিবন্ধে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেক খাতে অবহেলার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নাইন-ইলেভেনের ঘটনাটি শিক্ষামূলক হতে পারে। টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর জন্য অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজকর্মে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এখন উচিত ওই একই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি ঠেকাতে সঠিক ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করা। লক্ষ্য হিসেবে শুধু সন্ত্রাসের জায়গা নেবে স্বাস্থ্য। মার্কিন নাগরিকেরা কতটা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন করোনাভাইরাস দেখিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উচিত স্বাস্থ্য খাতেও গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানো। ইউএসএ টুডেতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৯/১১–এর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় ক্ষমতার পুরোটাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু করোনাভাইরাস এসে সেই অধ্যায়ের গোলমাল বাজিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন নীতিতে সম্পূর্ণ সংস্কার আনা জরুরি।
এতো গেল ভাইরাসের গল্প।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঘরের শত্রু কিন্তু আরও আছে। আর এর পেছনে খোদ প্রেসিডেন্টের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। এটি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যেসব বিষয় হুমকিস্বরূপ, তার একটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় বিদেশি শক্তিকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিদেশি হুমকির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদকে। বলা হচ্ছে, বিষয়টি সবচেয়ে ভয়ংকর মার্কিন মুলুকের জন্য এবং দিন দিন অবস্থা আরও সঙিন হচ্ছে।

 

বর্ণবাদ ও বিভক্তিকে পুঁজি করেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।এ অবস্থার দায় ট্রাম্প কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের কাজ জাতিকে একতাবদ্ধ রাখা, সংকটকালে তো এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি থাকে। আর সেখানেই ডাহা ফেল ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মাথাব্যথা শুধু কে কালো, কে বাদামি, কে সাদা—এসব নিয়েই । আর সেই সঙ্গে একেক দিন একেক কথা তো আছেই। অথচ কিছুদিন আগেই এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল মার্কিন মুলুক। কিন্তু বর্ণবাদের হুমকি বরং বাড়ছে।আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে আছে অসংখ্য বন্দুকধারী যেখানে সেখানে কিছুদিন পরই ঘটছে গোলাগুলির ঘটনা।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Desing & Developed BY NewsRush